বাংলাদেশে প্রচলিত মাদকের প্রকারভেদ ও শারীরবৃত্তীয় প্রভাব
ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা, হেরোইন, অ্যালকোহল—কোন মাদক কোন শ্রেণির, মস্তিষ্ক-হৃদযন্ত্র-লিভারে কী ক্ষতি করে এবং কখন চিকিৎসা জরুরি, তার বিজ্ঞানভিত্তিক গাইড.
লেখক: গোল্ডেন লাইফ বিডি ক্লিনিক্যাল টিম (২২ বছরের অভিজ্ঞতা) চিকিৎসা-পর্যালোচক: ডা. মুফাসসির হোসেন সোহেল, MBBS (Dhaka), BMDC নিবন্ধন A-26981 প্রকাশ: সর্বশেষ হালনাগাদ:
বাংলাদেশে প্রচলিত মাদকের প্রকারভেদ জানা শুধু তথ্যের বিষয় নয়, পরিবারের জন্য সিদ্ধান্তের বিষয়ও. ছেলের আচরণ বদলে গেছে, কিন্তু সে কী সেবন করছে আর তা শরীরের কোথায় আঘাত করছে, তা না জানলে ঠিক সময়ে ঠিক পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন.
২০০৪ সাল থেকে ৮০০-এর বেশি রোগীর চিকিৎসার অভিজ্ঞতায় আমরা দেখেছি, পরিবারগুলো নাম শোনে, কিন্তু পার্থক্য জানে না. ইয়াবা ও হেরোইনের বিপদ এক নয়, তাই লক্ষণ ও জরুরি পদক্ষেপও এক নয়.
এই লেখায় পাবেন মাদকের চারটি বৈজ্ঞানিক শ্রেণি, দেশের সর্বশেষ জরিপের তথ্য, মস্তিষ্ক-হৃদযন্ত্র-লিভারে প্রভাব, আইনি সচেতনতা এবং চিকিৎসার ধাপ.
পরিবারগুলো সাধারণত চিকিৎসা প্যাকেজ চাইতে আসে না. তারা জানতে আসে, সবকিছু এখনো ঠিক করা সম্ভব কি না. প্রায় সব ক্ষেত্রেই উত্তর হ্যাঁ, তবে ঘরে আরও চেষ্টা করে নয়.
বাংলাদেশে প্রচলিত মাদকের প্রকারভেদ: সংক্ষিপ্ত উত্তর
কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের ওপর প্রভাব অনুযায়ী মাদক প্রধানত চার শ্রেণির: স্টিমুল্যান্ট (ইয়াবা, আইস), অপিউয়েড (হেরোইন, ফেনসিডিল), ডিপ্রেস্যান্ট (অ্যালকোহল, ঘুমের ওষুধ) এবং হ্যালুসিনোজেন বা ক্যানাবিস (গাঁজা, চরস, ভাং). প্রতিটি শ্রেণি মস্তিষ্ক ও শরীরে আলাদাভাবে আঘাত করে.
| শ্রেণি | বাংলাদেশে পরিচিত উদাহরণ | মস্তিষ্ক ও শরীরে মূল প্রভাব |
|---|---|---|
| স্টিমুল্যান্ট (উদ্দীপক মাদক) | ইয়াবা, আইস (ক্রিস্টাল মেথ) | ডোপামিন বাড়ায়; হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ বাড়ে; ঘুমহীনতা, সন্দেহ ও সাইকোসিস |
| অপিউয়েড | হেরোইন, ফেনসিডিল (কোডিনযুক্ত সিরাপ), পেথিডিন | ব্যথাবোধ কমায়; শ্বাস ধীর করে; দ্রুত শারীরবৃত্তীয় নির্ভরতা তৈরি করে |
| ডিপ্রেস্যান্ট (দমনকারী) | অ্যালকোহল, ঘুমের ওষুধ | মস্তিষ্কের সংকেত শ্লথ করে; লিভার ও শ্বাসতন্ত্রে ঝুঁকি |
| হ্যালুসিনোজেন / ক্যানাবিস | গাঁজা, চরস, ভাং | স্মৃতি ও মনোযোগ ব্যাহত; বিভ্রম; ঝুঁকিপ্রবণ ব্যক্তির সাইকোসিস |
একটি সতর্কতা: ডিপ্রেস্যান্ট মানে অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট নয়. অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট বিষণ্নতার চিকিৎসার ওষুধ, আর ডিপ্রেস্যান্ট মস্তিষ্কের কার্যকলাপ শ্লথ করা মাদক বা ওষুধ. ক্যানাবিসকে অনেক শ্রেণিবিন্যাসে আলাদা ক্যানাবিনয়েড ধরা হয়, তবে সাধারণ আলোচনায় হ্যালুসিনোজেনের সঙ্গে রাখা হয়.
বাংলাদেশে প্রচলিত মাদকের প্রকারভেদ অনুযায়ী কোনটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত?
সর্বশেষ জাতীয় জরিপ অনুযায়ী গাঁজা সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত (প্রায় ৬১ লাখ), এরপর ইয়াবা (প্রায় ২৩ লাখ) ও অ্যালকোহল (প্রায় ২০ লাখ). ক্রিস্টাল মেথ বা আইসের ব্যবহারকারী তুলনায় কম হলেও ইয়াবার পথেই এটি দেশে ঢুকছে. বিস্তারিত জানতে গাঁজা আসক্তি পাতাটি দেখুন।
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ও আরএমসিএল ডিএনসি-র তত্ত্বাবধানে ২০২৫ সালে জরিপ চালায়. এতে দেশে মাদক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৮১,৯৪,৬০৫ (প্রায় ৪.৮৮%) পাওয়া যায়. গাঁজা প্রায় ৬১ লাখ, ইয়াবা প্রায় ২২.৯২ লাখ, অ্যালকোহল প্রায় ২০.২ লাখ, আইস ১১,৮৮৮ জন. অনেকে একাধিক মাদক ব্যবহার করেন.
সূত্র: বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ও আরএমসিএল-এর জাতীয় জরিপ (ডিএনসি-র তত্ত্বাবধানে), প্রকাশ ২৫ জানুয়ারি ২০২৬জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক দপ্তরও (UNODC) ২০২২ সালে জানায়, বাংলাদেশে ইয়াবার সঙ্গে ক্রিস্টালাইন মেথামফেটামিনও জব্দ হচ্ছে. বিস্তারিত পাবেন ইয়াবা আসক্তির লক্ষণ ও আধুনিক চিকিৎসা এবং ক্রিস্টাল মেথ (আইস) আসক্তি লেখায়.
ফোনে ১০–১৫ মিনিটের পরামর্শ বিনা মূল্যে. আপনার দেখা লক্ষণ শুনে আমরা বলব ডাক্তারি মূল্যায়ন কত দ্রুত দরকার. চিকিৎসা প্রয়োজন না হলে আমরা সেটাই বলব.
এখনই কল করুন: ০১৭১৬-৬২৩৬৬৫মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্র: ডোপামিনের ভারসাম্যহীনতা ও নিউরোটক্সিসিটি
বাংলাদেশে প্রচলিত মাদকের প্রকারভেদের মধ্যে ইয়াবা ও আইসের মূল উপাদান মেথামফেটামিন মস্তিষ্কে ডোপামিন হঠাৎ বাড়িয়ে দেয়. এই অস্বাভাবিক উচ্চ মাত্রা ডোপামিন কোষের ক্ষতি করতে পারে (নিউরোটক্সিসিটি), ফলে আনন্দ অনুভবের ক্ষমতা কমে যায় এবং সন্দেহ, ভয় ও সাইকোসিস দেখা দিতে পারে.
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অন ড্রাগ অ্যাবিউজ (NIDA) জানিয়েছে, মেথামফেটামিনজনিত সাইকোসিস কিছু ক্ষেত্রে মাদক বন্ধের পরও কয়েক মাস থেকে যায়. একই সংস্থা বলছে, মেথ ধমনিকে সংকুচিত করে অপেক্ষাকৃত কম বয়সীদের হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের কারণ হতে পারে.
মার্কিন গবেষকরা ১২–১৭ মাস আইসমুক্ত থাকা পাঁচজনের মস্তিষ্ক স্ক্যান করে দেখেন, ডোপামিন ট্রান্সপোর্টার উল্লেখযোগ্যভাবে ফিরেছে. তবে এটি খুব ছোট গবেষণা, আর স্মৃতি ও গতির পরীক্ষায় একই উন্নতি দেখা যায়নি.
সূত্র: Volkow ও সহযোগী, Journal of Neuroscience (NIH/PMC)মানসিক বিকারের প্রশ্নেও সতর্ক উত্তর দরকার. গাঁজার ক্ষেত্রে NIDA-সমর্থিত গবেষণা বলছে, দীর্ঘ ও ভারী ব্যবহার স্মৃতি-শেখার ক্ষমতা বদলায় এবং ঝুঁকিপ্রবণ ব্যক্তির সাইকোসিস ঘটাতে পারে. অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার ও বিষণ্নতার সঙ্গে আসক্তির সম্পর্ক নিয়ে পড়ুন মাদকাসক্তি ও মানসিক স্বাস্থ্যের সম্পর্ক এবং বিষণ্নতা ও আসক্তির ডুয়াল ডায়াগনোসিস.
হৃদযন্ত্র, লিভার, কিডনি ও শ্বাসতন্ত্রে মাদকের শারীরবৃত্তীয় ক্ষতি
বাংলাদেশে প্রচলিত মাদকের প্রকারভেদ ভেদে শরীরের ক্ষতিও আলাদা। স্টিমুল্যান্ট হৃদস্পন্দন অনিয়মিত করে ও রক্তচাপ বাড়ায়, অ্যালকোহল দীর্ঘমেয়াদে লিভার সিরোসিসের ঝুঁকি বাড়ায়, আর অপিউয়েড অতিরিক্ত মাত্রায় শ্বাস ধীর করে মৃত্যু ঘটাতে পারে. অঙ্গভেদে ক্ষতির ধরন আলাদা, তাই শ্রেণি জানা জরুরি. কোন মাদক চলছে, তা জানাই চিকিৎসকের মূল্যায়নের প্রথম ধাপ. নিচে অঙ্গ ধরে ধরে ব্যাখ্যা করা হলো.
হৃদযন্ত্র: কার্ডিওভাসকুলার ক্ষতি
NIDA-র তথ্য অনুযায়ী, মেথ সামান্য মাত্রাতেও দ্রুত বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দন এবং উচ্চ রক্তচাপ ঘটাতে পারে. অতিরিক্ত মাত্রা প্রায়ই স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক বা অঙ্গবিকলতায় গড়ায়. স্টিমুল্যান্ট হৃদযন্ত্রকে অতিরিক্ত কাজ করতে বাধ্য করে, ফলে হৃদস্পন্দন অনিয়মিত হয় এবং রক্তনালির ওপর চাপ বাড়ে. দীর্ঘদিন সেবনে এই চাপ হৃদযন্ত্রের পেশি ও রক্তনালিকে দুর্বল করতে পারে, তাই বুক ধড়ফড় বা বুকব্যথাকে কখনো অবহেলা করবেন না.
লিভার ও রেনাল সিস্টেম
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানায়, অ্যালকোহল লিভার সিরোসিসসহ ২০০-র বেশি রোগের ঝুঁকি বাড়ায়. সিরোসিসে যকৃতের কলা শক্ত হয়ে যায়, তাই এই ক্ষতি অনেক সময় স্থায়ী হয়. বিস্তারিত দেখুন WHO অ্যালকোহল ফ্যাক্টশিট এবং আমাদের অ্যালকোহল উইথড্রয়াল টাইমলাইন. অতিরিক্ত মাত্রা, উচ্চ দেহতাপ ও পানিশূন্যতায় কিডনিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে.
শ্বাসতন্ত্র ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
অপিউয়েডের অতিরিক্ত মাত্রায় তিনটি লক্ষণ একসঙ্গে দেখা দেয়: সরু পিউপিল, অচেতনতা ও শ্বাস ধীর হওয়া. অ্যালকোহল বা ঘুমের ওষুধের সঙ্গে মিললে শ্বাস বন্ধ হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি আরও বাড়ে.
সূত্র: WHO, Opioid overdose fact sheet (২০২৫)কোডিনযুক্ত ফেনসিডিলও অপিউয়েড শ্রেণির, তাই একই ঝুঁকি আছে. ফেনসিডিল আসক্তি ও উত্তরণের উপায় এবং হেরোইন আসক্তির চিকিৎসা আলাদা পাতায় আছে.
শারীরবৃত্তীয় নির্ভরতা ও উইথড্রয়াল
নিয়মিত সেবনে শরীর মাদকে অভ্যস্ত হয়ে যায়, তখন একই প্রভাবের জন্য বেশি মাত্রা লাগে. হঠাৎ বন্ধ করলে উইথড্রয়াল সিম্পটম আসে. NIDA-র তথ্যে মেথ ছাড়ার পর উদ্বেগ, ক্লান্তি, তীব্র বিষণ্নতা ও সাইকোসিস দেখা দিতে পারে. অ্যালকোহল ও অপিউয়েডের উইথড্রয়ালও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, তাই চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান জরুরি. বিস্তারিত জানতে ঘুমের ওষুধের আসক্তি পাতাটি দেখুন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন: আইনি সচেতনতা
বাংলাদেশে প্রচলিত মাদকের প্রকারভেদ আইনি দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৯ ধারায় অ্যালকোহল ছাড়া অন্য মাদকের উৎপাদন, বহন, কেনাবেচা ও সেবন নিষিদ্ধ. শাস্তি মাদকের ধরন ও পরিমাণের ওপর নির্ভর করে. আইনটির উদ্দেশ্যের মধ্যে মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনও আছে. বিস্তারিত জানতে মাদক সচেতনতা কার্যক্রম পাতাটি দেখুন।
২০২৬ সালে আইনটি সংশোধিত হয়েছে. সর্বশেষ ধারা পড়ুন সরকারি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ ও সংশোধন আইন, ২০২৬ পাতায়. ব্যক্তিগত মামলার ক্ষেত্রে আইনজীবীর পরামর্শ নিন.
অতিরিক্ত মাত্রার লক্ষণ: পরিবার এখনই কী করবে
বাংলাদেশে প্রচলিত মাদকের প্রকারভেদ নির্বিশেষে নিচের লক্ষণগুলো জরুরি বিপদের সংকেত। অচেতন হয়ে পড়া, ধীর বা অনিয়মিত শ্বাস, খিঁচুনি, তীব্র বুকব্যথা বা অতিরিক্ত উচ্চ জ্বর দেখলে দেরি না করে ৯৯৯-এ কল করুন বা নিকটস্থ হাসপাতালে নিন. রোগীকে একা ফেলে যাবেন না.
- রোগীকে জাগিয়ে রাখার চেষ্টা করুন এবং কাত করে শুইয়ে শ্বাস পরীক্ষা করুন.
- কী সেবন করেছেন, কখন ও কতটা, তা জানালে চিকিৎসকের সুবিধা হয়.
- ঘরোয়া টোটকা বা জোর করে বমি করানোর চেষ্টা করবেন না.
মাদকাসক্তি থেকে নিরাময়: ডিটক্স, থেরাপি ও পুনর্বাসন
বাংলাদেশে প্রচলিত মাদকের প্রকারভেদ যা-ই হোক, মাদকাসক্তি দুর্বলতা নয়, এটি চিকিৎসাযোগ্য মস্তিষ্কের রোগ. সঠিক চিকিৎসায় চিকিৎসক-তত্ত্বাবধানে ডিটক্স, থেরাপি, পারিবারিক কাউন্সেলিং ও ফলো-আপ একসঙ্গে চলে. আমাদের প্রোগ্রাম ন্যূনতম চার মাসের, প্রথম দুই-তিন সপ্তাহ ডিটক্স.
NIDA বলছে, মাদকনির্ভরতা ডায়াবেটিস বা হাঁপানির মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগ, তাই দীর্ঘ মেয়াদ ও আফটারকেয়ার জরুরি. বিস্তারিত পড়ুন NIDA-র চিকিৎসা ও রিকভারি পাতায়. আমাদের ঢাকার নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসা ও সেবা পাতায় পূর্ণ বিবরণ আছে.
| বিষয় | ঘরে সামলানো | পেশাদার আবাসিক রিহ্যাব |
|---|---|---|
| চিকিৎসক-তত্ত্বাবধানে ডিটক্স | ❌ ঝুঁকিপূর্ণ | ✅ |
| ২৪ ঘণ্টা নজরদারি | ❌ কঠিন | ✅ |
| থেরাপি ও কাউন্সেলিং | ❌ নেই | ✅ |
| পারিবারিক কাউন্সেলিং ও ফলো-আপ | ❌ নেই | ✅ |
চার মাসের প্যাকেজের মোট খরচ ৳৮০,০০০ থেকে ৳২,০০,০০০, রুমের ধরন অনুযায়ী. ভর্তির আগেই লিখিত হিসাব দেওয়া হয়. বিস্তারিত দেখুন ঢাকায় মাদক নিরাময় কেন্দ্রের খরচ. যেকোনো কেন্দ্রের লাইসেন্স মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থেকে যাচাই করুন. বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করুন পাতাটি দেখুন।
নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তির ৭ ধাপ
ভর্তির সাতটি ধাপ: ফোনে পরামর্শ, কেন্দ্র দেখা, ডাক্তারি মূল্যায়ন, কাগজপত্র, লিখিত খরচ, প্রথম ৭২ ঘণ্টার ডিটক্স এবং ফলো-আপ. চিকিৎসা পদ্ধতি ও প্যাকেজে কী কী থাকে, তা জানতে মাদকাসক্তি চিকিৎসা সেবা পাতা দেখুন. প্রতিটি ধাপে পরিবার সব তথ্য জেনে নিজের সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পায়, তাই কোনো তাড়াহুড়ো নেই.
০১৭১৬-৬২৩৬৬৫ নম্বরে যেকোনো সময় কল বা হোয়াটসঅ্যাপ করুন. অ্যাডমিশন ডেস্ক ২৪ ঘণ্টা খোলা, আর প্রথম ১০–১৫ মিনিটের পরামর্শ বিনা মূল্যে.
মিরপুর-১-এর কলওয়ালাপাড়ায় এসে রুম, রান্নাঘর ও চিকিৎসা কক্ষ নিজের চোখে দেখুন. অ্যাপয়েন্টমেন্ট লাগে না.
নিবন্ধিত চিকিৎসক কী মাদক, কত দিনের এবং মানসিক রোগ আছে কি না দেখে লিখিত চিকিৎসা পরিকল্পনা করেন.
রোগী ও অভিভাবকের এনআইডি, ছবি, আগের চিকিৎসার কাগজ (থাকলে) ও চলমান ওষুধ আনুন. কাগজ কম হলেও জরুরি ভর্তি আটকায় না.
পরিকল্পনা, মেয়াদ ও মোট ফি ভর্তির আগেই লিখিতভাবে জানানো হয়. ফি মাসিক ভিত্তিতে দিতে হয়.
ডিটক্স শুরু হয়, সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকে, আর পরিবার প্রতিদিন রোগীর খবর পায়.
ডিসচার্জের পর নির্দিষ্ট বিরতিতে যোগাযোগ থাকে. রিল্যাপস ঠেকানোর কৌশল জানুন রিল্যাপস প্রতিরোধের ১৫ কৌশল লেখায়.
কারা এই সেবা নিতে পারেন?
বাংলাদেশে প্রচলিত মাদকের প্রকারভেদ যা-ই হোক, আমরা শুধু পুরুষ রোগীর আবাসিক চিকিৎসা দিই. ইয়াবা, আইস, হেরোইন, ফেনসিডিল, গাঁজা, অ্যালকোহল বা ঘুমের ওষুধে আসক্ত পুরুষ রোগী এবং আগে চিকিৎসার পরও রিল্যাপস করা রোগী ভর্তি হতে পারেন. বিস্তারিত জানতে ঢাকার নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসা ও সেবা পাতাটি দেখুন।
- নেশার সঙ্গে বিষণ্নতা, উদ্বেগ বা সন্দেহের মতো মানসিক সমস্যা আছে এমন রোগী.
- যে পরিবার জানে না কীভাবে রোগীকে রাজি করাবে. আমাদের কাউন্সেলর সেই আলাপের প্রস্তুতিতেও সাহায্য করেন.
- নারী রোগীর জন্য ফোন করলে ঢাকার উপযুক্ত কেন্দ্র খুঁজে পেতে বিনা মূল্যে সাহায্য করি.
মিরপুরে গোল্ডেন লাইফ বিডি: উপসংহার
বাংলাদেশে প্রচলিত মাদকের প্রকারভেদ বুঝলে বোঝা যায়, প্রতিটি মাদক শরীরের আলাদা জায়গায় আঘাত করে. তিনটি কথা মনে রাখুন: স্টিমুল্যান্ট মস্তিষ্ক ও হৃদযন্ত্রে, অপিউয়েড শ্বাসে, অ্যালকোহল লিভারে বেশি ঝুঁকি তৈরি করে. দেরি হলে কিছু ক্ষতি স্থায়ী হয়, কিন্তু সময়মতো চিকিৎসায় সুস্থতার পথ খোলে. ২০০৪ সাল থেকে মিরপুরে গোল্ডেন লাইফ বিডি সেই পথে পরিবারের পাশে আছে. আমাদের ডিএনসিসি ট্রেড লাইসেন্স TRAD/DNCC/003817/2022 এবং ফায়ার সেফটি ছাড়পত্র FSCD/DHK/2026/32377/16. বিস্তারিত জানতে ব্লগের অন্যান্য লেখা পাতাটি দেখুন।
২৪ ঘণ্টা খোলা অ্যাডমিশন ডেস্ক. ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপে জানান, আমরা কী করা দরকার তা সৎভাবে বলব. ভর্তির আগে মোট খরচ লিখিতভাবে জানানো হয়. চিকিৎসার ফল রোগীভেদে আলাদা হয়.
কল করুন: ০১৭১৬-৬২৩৬৬৫ হোয়াটসঅ্যাপে পরামর্শ নিনসচরাচর জিজ্ঞাসা
নিচে বাংলাদেশে প্রচলিত মাদকের প্রকারভেদ, মস্তিষ্ক-হৃদযন্ত্র-লিভারের ক্ষতি, মানসিক বিকার ও চিকিৎসা নিয়ে ছয়টি সাধারণ প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত উত্তর আছে. প্রশ্নে ক্লিক করে উত্তর দেখুন.
সর্বশেষ জাতীয় জরিপে গাঁজা সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত, প্রায় ৬১ লাখ জন. এরপর ইয়াবা প্রায় ২৩ লাখ এবং অ্যালকোহল প্রায় ২০ লাখ. হেরোইন, কোডিনযুক্ত সিরাপ ও ঘুমের ওষুধও ব্যবহৃত হয়. অনেকে একাধিক মাদক ব্যবহার করেন.
মেথামফেটামিন মস্তিষ্কে ডোপামিন অস্বাভাবিক বাড়ায়. এই উচ্চ মাত্রা ডোপামিন কোষের ক্ষতি করতে পারে. ফলে আনন্দ অনুভব কমে এবং সন্দেহ, ভয় ও সাইকোসিস দেখা দিতে পারে. দীর্ঘ সময় মাদকমুক্ত থাকলে ডোপামিন ব্যবস্থার একটি অংশ ফিরতে পারে.
অপিউয়েড মস্তিষ্কের শ্বাস নিয়ন্ত্রণকারী অংশকে ধীর করে. বেশি মাত্রায় শ্বাস বন্ধ হয়ে মৃত্যু হতে পারে. দ্রুত শারীরবৃত্তীয় নির্ভরতাও তৈরি হয়. অ্যালকোহল বা ঘুমের ওষুধের সঙ্গে মিললে ঝুঁকি আরও বাড়ে.
স্টিমুল্যান্ট দীর্ঘদিন নিলে অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, উচ্চ রক্তচাপ এবং হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে. অতিরিক্ত অ্যালকোহল লিভার সিরোসিস ঘটাতে পারে, যেখানে যকৃতের কলা শক্ত হয়ে যায়. কিছু ক্ষতি স্থায়ী হয়, তাই দ্রুত চিকিৎসক দেখান.
মাদক সাইকোসিস ঘটাতে পারে, বিশেষ করে মেথামফেটামিন ও ভারী গাঁজা ব্যবহারে. কিছু ক্ষেত্রে লক্ষণ মাদক বন্ধের পরও মাস ধরে থাকে. সম্পর্কটি জটিল, তাই কারণ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য মনোরোগ চিকিৎসকের মূল্যায়ন দরকার.
প্রথমে চিকিৎসক-তত্ত্বাবধানে ডিটক্স, তারপর থেরাপি, কাউন্সেলিং ও পারিবারিক সেশন, শেষে রিল্যাপস প্রতিরোধ পরিকল্পনা ও ফলো-আপ. আমাদের প্রোগ্রাম ন্যূনতম চার মাসের. ঘরে একা সামলানো ঝুঁকিপূর্ণ, বিশেষ করে অ্যালকোহল ও অপিউয়েডের ক্ষেত্রে.
এই লেখা সাধারণ তথ্যের জন্য, ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়. চিকিৎসা-তথ্য পর্যালোচনা: ডা. মুফাসসির হোসেন সোহেল (বিএমডিসি A-26981) · প্রকাশ: · সর্বশেষ হালনাগাদ: .