মাদক নিরাময় কেন্দ্রের খরচ ঢাকায় কত?
মাদক নিরাময় কেন্দ্রের খরচ: প্যাকেজ ভিত্তিক হিসাব, সরকারি ও বেসরকারি কেন্দ্রের তফাত এবং ভর্তির ধাপ—লুকানো খরচ ছাড়া, পরিষ্কারভাবে।
মাদক নিরাময় কেন্দ্রের খরচ কত—এই প্রশ্ন নিয়েই বেশির ভাগ পরিবার প্রথম ফোন তোলে। কারণটা বোঝা যায়। সংকটের মাঝখানে আপনাকে এমন একটা সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে, যার জন্য কেউ আপনাকে প্রস্তুত করেনি।
এই লেখায় আমরা ঢাকার বাস্তব খরচের হিসাব দিয়েছি। সঙ্গে আছে সরকারি ও বেসরকারি কেন্দ্রের তুলনা, ভালো কেন্দ্র চেনার উপায় এবং ভর্তির ধাপ। শেষে পাবেন একটি সৎ পরামর্শ: খরচ কমাতে গিয়ে কোথায় ঝুঁকি বাড়ে।
মাদক নিরাময় কেন্দ্রের খরচ ঢাকায় কেন এত আলাদা হয়?
ঢাকায় বেসরকারি মাদক নিরাময় কেন্দ্রের খরচ কয়েক হাজার টাকা থেকে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তফাতটা আসে রুমের ধরন, চিকিৎসক ও থেরাপির সময়, খাবারের মান এবং আফটারকেয়ারের ওপর। কম দাম মানেই খারাপ নয়, আবার বেশি দাম মানেই ভালো চিকিৎসাও নয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) একজন কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, সরকারি পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোতে মোট শয্যা ১৯৯টি, আর বেসরকারি কেন্দ্রগুলোতে ৬,১৯০টি। দেশে আনুমানিক ৮২ লাখ মানুষ মাদকনির্ভর।
সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার (বাংলা), ২৬ আগস্ট ২০২৬এর মানে, অধিকাংশ পরিবারই শেষ পর্যন্ত বেসরকারি কেন্দ্রের দিকে যায়। ২০২৫ সালে চিকিৎসা নেওয়া ৩৯,৬৪১ জনের মধ্যে ৩২,৪৮২ জন গেছেন বেসরকারি কেন্দ্রে। তাই মাদক নিরাময় কেন্দ্রের খরচ দেখার আগে কোন কেন্দ্র বেছে নিচ্ছেন, সেটাই আসল সিদ্ধান্ত।
খরচ নিয়ে সরাসরি কথা বলুন
ফোনে ১০–১৫ মিনিটের পরামর্শ বিনা মূল্যে। রোগীর অবস্থা শুনে আমরা বলব চিকিৎসা আদৌ দরকার কি না, আর দরকার হলে খরচ ও মেয়াদ কেমন হবে। চিকিৎসা প্রয়োজন না হলে আমরা সেটাই বলব। ভর্তির আগেই লিখিতভাবে মোট খরচ জানানো হয়, তাই লুকানো খরচের দুশ্চিন্তা থাকে না।
এখনই কল করুন: ০১৭১৬-৬২৩৬৬৫মাদক নিরাময় কেন্দ্রের খরচ: গোল্ডেন লাইফ বিডি-র প্যাকেজ ও রিহ্যাব সেন্টার খরচ
প্রতিটি প্যাকেজ ন্যূনতম চার মাসের আবাসিক প্রোগ্রাম, এবং ফি মাসিক ভিত্তিতে দিতে হয়। সব প্যাকেজেই থাকা, তিন বেলা খাবার ও দুই বেলা নাস্তা, চিকিৎসক-তত্ত্বাবধানে ডিটক্স, থেরাপি, পারিবারিক কাউন্সেলিং এবং ডিসচার্জের পর ফলো-আপ অন্তর্ভুক্ত। এই কেন্দ্রে মাদক নিরাময় কেন্দ্রের খরচ ভর্তির আগেই লিখিতভাবে জানানো হয়।
| প্যাকেজ | মোট (৪ মাস) | মাসিক | রুম ও বাড়তি সুবিধা |
|---|---|---|---|
| প্যাকেজ ১ | ৳৮০,০০০ | ৳২০,০০০ | শেয়ার্ড (১–১০ বেড), নন-এসি |
| প্যাকেজ ২ | ৳১,২০,০০০ | ৳৩০,০০০ | ১–৫ বেড, নন-এসি; বাড়তি কাউন্সেলিং ও নিয়মিত মনোরোগ রিভিউ |
| প্যাকেজ ৩ | ৳১,৬০,০০০ | ৳৪০,০০০ | দুই বেডের রুম, নন-এসি; ঘন ঘন চিকিৎসক রিভিউ |
| প্যাকেজ ৪ | ৳২,০০,০০০ | ৳৫০,০০০ | দুই বেডের এসি রুম, আলাদা বাথরুম; সর্বোচ্চ গোপনীয়তা |
একটি জিনিস আগেই জানিয়ে রাখি: চিকিৎসার মাঝখানে অন্য হাসপাতালে রেফার করতে হলে সেই খরচ আলাদা। তবে খরচ করার আগে আপনার সঙ্গে কথা বলা হয়। চিকিৎসা পদ্ধতি ও প্যাকেজে কী কী থাকে, তা আলাদা পাতায় বিস্তারিত পাবেন।
১ মাসের মাদক নিরাময় কেন্দ্রের খরচ কত?
এক মাসের প্যাকেজ আমাদের নেই। ডিটক্স সাধারণত প্রথম দুই থেকে তিন সপ্তাহ নেয়, আর তার পরেই আসল থেরাপি শুরু হয়। তাই মাদক নিরাময় কেন্দ্রের খরচ মাসিক হিসাবে ৳২০,০০০ থেকে ৳৫০,০০০ ধরে চার মাসের পরিকল্পনা করাই বাস্তবসম্মত। ফি মাসিক ভিত্তিতে দিতে হয়, আর মোট খরচ ভর্তির আগেই লিখিতভাবে জানানো হয়।
সরকারি রিহ্যাব সেন্টার খরচ কত এবং বেসরকারি কেন্দ্রের সঙ্গে তফাত কী?
তেজগাঁওয়ের কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে রোগীদের খাবার ও ওষুধ বিনা মূল্যে দেওয়া হয়, আর চিকিৎসার মেয়াদ ২৮ দিন। কিন্তু শয্যা কম, আর ২০২৬ সালের একটি প্রতিবেদনে ভর্তির জন্য দুই মাস পর্যন্ত অপেক্ষার কথা এসেছে। জরুরি অবস্থায় এই অপেক্ষা অনেক পরিবারের পক্ষে সম্ভব হয় না।
| বিষয় | সরকারি কেন্দ্র | লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি | অননুমোদিত কেন্দ্র |
|---|---|---|---|
| খরচ | খুবই কম / বিনা মূল্যে খাবার ও ওষুধ | মাসে ৳২০,০০০–৫০,০০০ (আমাদের ক্ষেত্রে) | অস্পষ্ট, পরে বাড়ে |
| দ্রুত ভর্তি | অপেক্ষার তালিকা থাকতে পারে | সাধারণত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে | দ্রুত, কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ |
| যাচাইযোগ্য লাইসেন্স | ✅ সরকারি | ✅ ডিএনসি-র অনুমোদন | ❌ নেই |
| নিবন্ধিত চিকিৎসক | ✅ | ✅ (যাচাই করুন) | ❌ প্রায়ই নেই |
| পারিবারিক কাউন্সেলিং ও আফটারকেয়ার | সীমিত | ✅ কাঠামোবদ্ধ | ❌ প্রায়ই নেই |
আমাদের সৎ পরামর্শ: টাকা কম থাকলে এবং পরিস্থিতি জরুরি না হলে সরকারি কেন্দ্র দিয়ে শুরু করা যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত। যেকোনো কেন্দ্রের লাইসেন্স আপনি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কাছ থেকেও যাচাই করে নিতে পারেন।
মাদক নিরাময় কেন্দ্র ভালো কি না, যাচাই করবেন যেভাবে
ঢাকার ভালো মাদক নিরাময় কেন্দ্র আর কম খরচে ভালো মাদক নিরাময় কেন্দ্র খুঁজতে গিয়ে এই পাঁচটি প্রশ্ন করুন:
- লাইসেন্স: ট্রেড লাইসেন্স ও ডিএনসি-র অনুমোদনের মূল কাগজ দেখতে চান। ভালো কেন্দ্র দেখাতে দ্বিধা করবে না।
- চিকিৎসক: বিএমডিসি নিবন্ধন নম্বর আছে কি না এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ আছেন কি না।
- ২৪ ঘণ্টা তত্ত্বাবধান: রাতে, বিশেষ করে ডিটক্সের সময়, নার্স জেগে থাকেন কি না।
- খরচ লিখিতভাবে: ভর্তি ফি, থাকা-খাওয়া ও ওষুধ আলাদা করে লিখিত পাচ্ছেন কি না।
- খোলা দরজা: ভর্তির আগে রুম ও রান্নাঘর ঘুরে দেখতে দেওয়া হয় কি না।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অন ড্রাগ অ্যাবিউজ (NIDA) বলছে, মাদকনির্ভরতার চিকিৎসার পর পুনরায় ব্যবহারের হার ৪০–৬০ শতাংশ। এটি ডায়াবেটিস বা হাঁপানির মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগের কাছাকাছি। তাই দীর্ঘ মেয়াদ ও আফটারকেয়ারই আসল পার্থক্য গড়ে দেয়।
সূত্র: NIDA, Treatment and Recoveryপনেরো দিনের কম খরচের প্রোগ্রাম অনেক সময় শুধু শারীরিক উইথড্রয়াল পার করায়। মানসিক কাজ শুরুর আগেই ডিসচার্জ হয়ে যায়, আর পরিবার দ্বিতীয় কেন্দ্র খুঁজতে বাধ্য হয়।
মাদক নিরাময় কেন্দ্র ঢাকা: চার মাসের রিকভারি যাত্রা
গোল্ডেন লাইফ বিডি-র প্রতিটি প্যাকেজ ন্যূনতম চার মাসের আবাসিক প্রোগ্রাম। ডিটক্সিফিকেশন, থেরাপি ও পারিবারিক সেশন, এবং ফেরার প্রস্তুতি—এই তিন ধাপে চিকিৎসা এগোয়। প্রতিটি ধাপে কী হয়, তা নিচে আলাদা করে দেওয়া হলো। মাদক নিরাময় কেন্দ্রের খরচের মধ্যে এই তিন ধাপের সব সেবাই ধরা থাকে—থাকা, তিন বেলা খাবার, ডিটক্স, থেরাপি ও ফলো-আপ।
ডিটক্সিফিকেশন
সপ্তাহ ১–৩চিকিৎসক-তত্ত্বাবধানে উইথড্রয়াল, ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ, প্রতিদিন পরিবারকে ফোনে আপডেট। ডিটক্স সাধারণত প্রথম দুই থেকে তিন সপ্তাহ নেয়। এই সময় শরীর নেশা ছাড়ার ধাক্কা সামলায়, তাই সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকে। ডিটক্স শেষ হলে আসল থেরাপি শুরু হয়। পরিবারকে প্রতিদিন ফোনে জানানো হয়, তাই দূরে থেকেও রোগীর অবস্থা বুঝতে পারেন।
থেরাপি ও পরিবার
মাস ১–৩ব্যক্তিগত ও দলগত কাউন্সেলিং, ট্রিগার চেনা, মনোরোগ চিকিৎসা এবং পারিবারিক সেশন। ডিটক্সের পর এই তিন মাসই চিকিৎসার মূল কাজ। রোগী শেখেন কোন পরিস্থিতি বা অনুভূতি নেশার দিকে টানে, আর পরিবার শেখে কীভাবে পাশে থাকতে হয়। বিষণ্নতা বা উদ্বেগের মতো সমস্যা থাকলে মনোরোগ চিকিৎসাও চলে।
ফেরার প্রস্তুতি
মাস ৪ ও পরেলিখিত রিল্যাপস প্রতিরোধ পরিকল্পনা, কাজে ফেরার প্রস্তুতি এবং নিয়মিত ফলো-আপ। রিল্যাপস মানে আবার নেশায় ফিরে যাওয়া। তাই ডিসচার্জের আগে রোগী ও পরিবারকে একটি লিখিত পরিকল্পনা দেওয়া হয়। তাতে ঝুঁকির পরিস্থিতি চেনা ও তখন কী করতে হবে, তা স্পষ্ট থাকে।
এই ধাপগুলো কীভাবে চলে, তা জানতে মাদকাসক্তি চিকিৎসা সেবা পাতাটি দেখতে পারেন।
মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি হতে কী কী লাগে: ৭ ধাপ
মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি হতে প্রথম ফোন থেকে শুরু করে ডিসচার্জের পরের ফলো-আপ পর্যন্ত মোট সাতটি ধাপ আছে। কেন্দ্র আগে দেখে নিতে পারেন, ডাক্তারি মূল্যায়নের পর চিকিৎসা পরিকল্পনা ও খরচ লিখিতভাবে পাবেন, তারপর ভর্তি হবেন। ফলে ভর্তির আগেই মাদক নিরাময় কেন্দ্রের খরচ, মেয়াদ ও চিকিৎসা পরিকল্পনা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পান।
ফোন করুন
যেকোনো সময় ০১৭১৬-৬২৩৬৬৫ নম্বরে কল বা হোয়াটসঅ্যাপ করুন। ১০–১৫ মিনিটের আলাপে রোগীর অবস্থা জানান, আর পরিস্থিতি বুঝে আমরা আপনাকে সৎ পরামর্শ দেব। এই পরামর্শ বিনা মূল্যে। চিকিৎসা প্রয়োজন না হলে আমরা সেটাই বলব। অ্যাডমিশন ডেস্ক ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে। আলাপের সময় রোগীর কী নেশা, কতদিনের এবং আগে চিকিৎসা নিয়েছেন কি না, তা জানিয়ে রাখলে পরামর্শ আরও কাজের হয়।
কেন্দ্র দেখে আসুন
অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই মিরপুরে এসে রুম, রান্নাঘর ও চিকিৎসা কক্ষ ঘুরে দেখতে পারেন। কেন্দ্রটি মিরপুর-১-এর কলওয়ালাপাড়ায়। ভর্তির সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের চোখে দেখে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ, আর ভালো কেন্দ্র দেখাতে দ্বিধা করে না। এসে দেখে নিন চিকিৎসক আছেন কি না, আর খরচ লিখিতভাবে পাচ্ছেন কি না।
ডাক্তারি মূল্যায়ন
নিবন্ধিত চিকিৎসক রোগীকে পরীক্ষা করেন। কী নেশা, কতদিনের এবং কোনো মানসিক রোগ আছে কি না, তা দেখে চিকিৎসা পরিকল্পনা লেখা হয়। এই মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করেই ঠিক হয় চিকিৎসা কীভাবে চলবে এবং কোন ধাপে কী করা হবে। পরিবারের দেওয়া তথ্য ও আগের চিকিৎসার কাগজ এই মূল্যায়নে কাজে লাগে।
কাগজপত্র আনুন
রোগী ও অভিভাবকের এনআইডি ফটোকপি, চার কপি ছবি, আগের চিকিৎসার কাগজ (থাকলে) এবং চলমান ওষুধ সঙ্গে আনুন। আগে চিকিৎসা নিয়ে থাকলে সেই কাগজ চিকিৎসককে সঠিক পরিকল্পনা করতে সাহায্য করে। কাগজ কম পড়লেও জরুরি ভর্তি আটকায় না। অভিভাবকের এনআইডি ফটোকপির সঙ্গে ব্যক্তিগত পোশাকও আনা ভালো।
লিখিত খরচ নিন
ভর্তির আগেই পরিকল্পনা, মেয়াদ ও মোট ফি লিখিতভাবে দেওয়া হয়। ফি মাসিক ভিত্তিতে দিতে হয়, আর চিকিৎসার মাঝখানে অজানা খরচ যোগ হয় না। লিখিত কাগজটি পরিবারের সবাইকে দেখান, তারপর সিদ্ধান্ত নিন। প্যাকেজ বাছাইয়ের আগে লিখিত হিসাব মিলিয়ে নিন, কোনো প্রশ্ন থাকলে ফোনে জিজ্ঞেস করুন।
প্রথম ৭২ ঘণ্টা
ডিটক্স শুরু হয়। এই সময়টাই সবচেয়ে কঠিন, তাই সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকে এবং পরিবার প্রতিদিন খবর পায়। উইথড্রয়াল চলে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে, আর ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করা হয়। রোগী কেমন আছেন, সেই খবর প্রতিদিন ফোনে জানানো হয়। এই সময় রোগীর কষ্ট বাড়তে পারে, তাই পরিবারের ধৈর্য ও চিকিৎসকের নজরদারি দুটোই জরুরি।
ফলো-আপ
ডিসচার্জের পরও নির্দিষ্ট বিরতিতে যোগাযোগ রাখা হয়। সমস্যার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত সহায়তা মেলে। ফলো-আপ সব প্যাকেজেই অন্তর্ভুক্ত। চার মাসের প্রোগ্রামের শেষে বানানো লিখিত রিল্যাপস প্রতিরোধ পরিকল্পনা ধরেই রোগীর অগ্রগতি দেখা হয়। ঘরে ফেরার পর নিয়মিত যোগাযোগ রোগীকে পরিকল্পনা মেনে চলতে সাহায্য করে। তাই চিকিৎসা শুধু ডিসচার্জে শেষ হয় না।
কারা এই সেবা নিতে পারেন?
- ইয়াবা, হেরোইন, গাঁজা, অ্যালকোহল বা ঘুমের ওষুধে আসক্ত পুরুষ রোগী; বিশেষ করে ১৮–৪০ বছর বয়সীরা।
- আগে চিকিৎসা নিয়েও যাদের বারবার রিল্যাপস হয়েছে।
- যাদের নেশার সঙ্গে বিষণ্নতা, উদ্বেগ বা অন্য মানসিক সমস্যাও আছে।
- যে পরিবার জানে না রোগীকে কীভাবে রাজি করাবে। আমাদের কাউন্সেলর সেই আলাপের প্রস্তুতিতেও সাহায্য করেন।
একটি জরুরি তথ্য: আমরা শুধু পুরুষ রোগীর আবাসিক চিকিৎসা দিই। নারী রোগীর জন্য ফোন করলে ঢাকার উপযুক্ত কেন্দ্র খুঁজে পেতে বিনা মূল্যে সাহায্য করি।
মাদক নিরাময় কেন্দ্র মিরপুর: গোল্ডেন লাইফ বিডি
২০০৪ সাল থেকে মিরপুর-১-এ কাজ করা এই কেন্দ্রের ঠিকানা: বাড়ি ৩৩, ব্লক-এফ, রোড ৪, কলওয়ালাপাড়া, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬। আমাদের ডিএনসিসি ট্রেড লাইসেন্স নম্বর TRAD/DNCC/003817/2022, ফায়ার সেফটি ছাড়পত্র FSCD/DHK/2026/32377/16 এবং ডিএনসি-র অনুমোদনের মূল সনদ কেন্দ্রে প্রদর্শিত আছে।
চিকিৎসা পরিকল্পনা লেখেন ডা. মুফাসসির হোসেন সোহেল (বিএমডিসি নিবন্ধন A-26981, সার্টিফায়েড অ্যাডিকশন প্রফেশনাল)। সঙ্গে আছেন কনসালটেন্ট মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট।
পরিবারগুলো সাধারণত চিকিৎসা প্যাকেজ চাইতে আসে না। তারা জানতে আসে, সবকিছু এখনো ঠিক করা সম্ভব কি না। প্রায় সব ক্ষেত্রেই উত্তর হ্যাঁ, তবে ঘরে আরও চেষ্টা করে নয়।
ডা. মুফাসসির হোসেন সোহেল, অ্যাডিকশন মেডিসিন, গোল্ডেন লাইফ বিডিআরও জানতে দেখুন ঢাকার নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসা ও সেবা এবং মিরপুরে গোল্ডেন লাইফ বিডি।
উপসংহার: মাদক নিরাময় কেন্দ্রের খরচ নিয়ে সিদ্ধান্ত
মাদক নিরাময় কেন্দ্রের খরচ ঢাকায় আপনার প্রত্যাশার চেয়ে কম বা বেশি, দুটোই হতে পারে। তিনটি কথা মনে রাখুন: লাইসেন্স আগে যাচাই করুন, খরচ লিখিতভাবে নিন, আর চিকিৎসার মেয়াদ ও আফটারকেয়ার দেখে সিদ্ধান্ত নিন। সিদ্ধান্ত যতই কঠিন লাগুক, এক ফোনেই শুরু করা যায়, এবং কোনো ফলাফলের নিশ্চয়তা ছাড়াই আমরা সৎভাবে পাশে থাকব। চিকিৎসার ফল রোগীভেদে আলাদা হয়।
আজ একবার কথা বলুন
রোগীর জন্য চিন্তায় থাকলে আজই ফোন করুন। ১০–১৫ মিনিটের বিনা মূল্যের পরামর্শে আমরা পরিস্থিতি শুনে সৎভাবে জানাব চিকিৎসা দরকার কি না। ২৪ ঘণ্টা খোলা অ্যাডমিশন ডেস্ক · ফোন: ০১৭১৬-৬২৩৬৬৫ · goldenlifebd2012@gmail.com। ফোনে কথা বলা কঠিন লাগলে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়েও শুরু করতে পারেন, আমরা সেখানেও সাড়া দিই।
হোয়াটসঅ্যাপে পরামর্শ নিনসচরাচর জিজ্ঞাসা
গোল্ডেন লাইফ বিডি-তে চার মাসের আবাসিক প্রোগ্রামের খরচ ৳৮০,০০০ থেকে ৳২,০০,০০০, অর্থাৎ মাসে প্রায় ৳২০,০০০ থেকে ৳৫০,০০০। থাকা, তিন বেলা খাবার, ডিটক্স, থেরাপি ও ফলো-আপ এতে ধরা থাকে। রুমের ধরন অনুযায়ী খরচ বদলায়।
আমাদের কোনো এক মাসের প্যাকেজ নেই, কারণ ডিটক্সের পর আসল থেরাপি শুরু হয়। ন্যূনতম মেয়াদ চার মাস, আর মাসিক হিসাবে খরচ ৳২০,০০০ থেকে ৳৫০,০০০। ফি মাসিক ভিত্তিতে দিতে হয় এবং লিখিত খরচ ভর্তির আগেই দেওয়া হয়।
তেজগাঁওয়ের কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে খাবার ও ওষুধ বিনা মূল্যে দেওয়া হয় এবং চিকিৎসার মেয়াদ ২৮ দিন। তবে শয্যা সীমিত, তাই অপেক্ষার তালিকা থাকতে পারে। সর্বশেষ তথ্যের জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
প্রথমে লাইসেন্স দেখতে চান। এরপর দেখুন নিবন্ধিত চিকিৎসক আছেন কি না এবং রাতে নার্স থাকেন কি না। রান্নাঘর ও রুম ঘুরে দেখতে দেওয়া হয় কি না, আর খরচ লিখিতভাবে দেওয়া হয় কি না, তাও যাচাই করুন। মারধর বা আটকে রাখাকে চিকিৎসা বলে এমন কেন্দ্র এড়িয়ে চলুন।
রোগীর জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি বা জন্মনিবন্ধন লাগবে। সঙ্গে আনুন অভিভাবকের এনআইডি ফটোকপি, চার কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি, আগের চিকিৎসার কাগজ (থাকলে), ব্যক্তিগত পোশাক এবং চলমান ওষুধ। কাগজ কম পড়লেও জরুরি ভর্তি আটকায় না।
না, আমরা শুধু পুরুষ রোগীদের আবাসিক চিকিৎসা দিই, কারণ আলাদা নারী আবাসন নেই। নারী রোগীর জন্য ফোন করলে আমরা ঢাকার উপযুক্ত কেন্দ্র খুঁজে পেতে বিনা মূল্যে সাহায্য করি।
এই লেখা সাধারণ তথ্যের জন্য, ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। চিকিৎসা-তথ্য পর্যালোচনা: ডা. মুফাসসির হোসেন সোহেল (বিএমডিসি A-26981)। লেখক: Umme Habiba · প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬।